রুমি ছোটবেলা থেকেই কিছুতে ভয় পায় না, একমাত্র তার ভয় গঙ্গাফড়িংকে। তার বাবা মা কত চেষ্টা করেছেন এই ভয় কাটানোর, কিন্তু সবই বৃথা। অত সাহসী মেয়েটা গঙ্গাফড়িং দেখলেই প্রায় অজ্ঞান! যত বড় হয়েছে ভয়টা আরও বেড়ে আতঙ্কের পর্যায়ে চলে গেছে।
তার প্রিয় বন্ধু সুমী ও অঙ্কুর। একসাথেই বড় হয়েছে তারা। কবে থেকে যে অঙ্কুর ও রুমির বন্ধুত্ব ভালবাসায় পরিণত হয়েছে, তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনি। যেদিন দুজনেই তা উপলব্ধি করল, সবার আগে তারা ছুটে গেল তাদের প্রিয় বন্ধু সুমীর কাছে। সুমীও উচ্ছ্বসিত ওদের ভালবাসার খবরে। সময় কেটে যায়। দুই বাড়ি থেকে দুজনের বিয়ে ঠিক হল। সুমী অতি উৎসাহে বিয়ের কাজে লেগে পড়ল।
বিয়ের আগের দিন রাতে রুমিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল তার নিজের ঘরে। ডাক্তারবাবু বললেন, কোন কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তার। অঙ্কুর এই আঘাত সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ল।এই সময় সুমী দিনরাত সেবা করে দীর্ঘ দিন পর তাকে সুস্থ করে তুলল। অঙ্কুরের মায়ের কাতর আবেদনে সাড়া দিয়ে সুমী এল অঙ্কুরের জীবনে। বিয়ে হল। ফুলসজ্জার দিন সেজেগুজে বসে আছে সুমী। মুখে তার অদ্ভুত হাসি! তার ভালবাসাকে কেড়ে নিচ্ছিল রুমি? তাই তো তাকে এত কিছু করতে হল! রুমির বিয়ের আগের দিন তার বিছানায় চাদরের মধ্যে গঙ্গাফড়িং ছেড়ে দিয়ে এসেছিল সে। তাতেই হার্ট অ্যাটাক হয় তার। আজ অঙ্কুরকে অবশেষে পেল সে।