" এই যে শুনছ ? কি গো ? কী যে করছ তখন থেকে ! ও বুঝেছি ! নিশ্চয়ই ফেস বুক করছ ! হ্যাঁ ঠিক ধরেছি! কি গো তুমি ? আমি কিচেন থেকে ডাকতে ডাকতে ঘরে এসেও কথা বলেই যাচ্ছি , তোমার কোন হুঁশই নেই ! ফেস বুকে কি এত দেখ বলত ! আরে কিছু না , বল কি বলবে ? বলছিলাম আজ একটু যাবে গো আমার সাথে ? কোথায় যাবো ? ওই, মার শরীরটা ভাল নেই , বাবা ফোন করেছিল। তাই ভাবছিলাম , বিকেলে একবার যাবে ? আজ ? আজ তো সন্ধ্যেবেলা ক্লাব এ মিটিং আছে । তুমি চলে যাও না! তুমি তো সকালেই চলে যেতে পারতে !" ইতিমধ্যে মণি খেয়াল করল যে , ও বাড়ি যাওয়াটাকে রাহুল ইচ্ছে করে এড়িয়ে গেল। মণি আরও খেয়াল করল যে, রাহুল ওর কথার উত্তর দিচ্ছে বটে , কিন্তু ওর মন ও দৃষ্টি দুটোই ফেস বুকে আটকে আছে। কী এমন আকর্ষণ আছে ওতে যে, ও শ্বশুরবাড়ি যেতে চাইছে না ! যেখানে যাওয়ার জন্য রাহুল সবসময় মুখিয়ে থাকে ! কারণ শাশুড়িমার রান্না ও খুবই পছন্দ করে। বলাবাহুল্য রাহুল খুবই খাদ্যরসিক ! এদিকে বরের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার মত মানসিকতা কোনোদিনই মণির ছিল না। কিন্তু ইদানিং রাহুলের প্রত্যেকটি কথাবার্তা , আচার - আচরণ মণির মধ্যে সন্দেহ তৈরি করছে।
তাই তো কৌতুহলবশত একদিন রাহুল বাথরুমে থাকাকালীন ওর মোবাইলে হাত দিয়ে মণির প্রায় মূর্চ্ছা যাওয়ার অবস্থা ! একি দেখছে সে ! নিজেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। রাহুলের মেসেঞ্জারে অনামিকা নামে এই মহিলা কে ? যাকে রাহুল নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা বলছে ! অনেক চিন্তা করেও কিছু সমাধান সূত্র না মেলায় সেই সময়ের ঘোর কাটিয়ে কাজে ব্যস্ত হওয়ার ভান করল। কিন্তু মনটা সারাদিন মেসেঞ্জারের মধ্যেই ঘোরাঘুরি করতে থাকল। রাহুলকে কিছু বুঝতে না দিয়ে বেশ কটাদিন এইভাবে কাটিয়ে এক রবিবারের দুপুরে মণি রাহুলের সামনে পরকীয়া বিষয়টি উত্থাপন করল এবং শুধু তাই নয় , এতে রাহুলের মতামতও জানতে চাইল। মণি একটা বিষয় খেয়াল করল যে , রাহুল হঠাৎই উত্তেজিত হয়ে পড়ল ! মণি কিন্তু খুবই শান্তভাবে পুরো ব্যাপারটা সামাল দিল। কিন্তু সত্যি কোনোদিন চাপা থাকে না। তাই এক্ষেত্রেও তাইই হল। একটা সময় পরে রাহুল নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে মণিকে সব খুলে বলল , এবং শুধু তাই নয় এই পুরো ব্যাপারটা যে ওর ইচ্ছেতেই হয়েছে , তাও বলতে কসুর করল না। এদিকে তার এই কাজের ফলে , মণি যে প্রচন্ড কষ্ট পাচ্ছে , সেদিকে কোন কর্ণপাতই করল না রাহুল ! এতে মণি খুবই আঘাত পেয়ে ভেঙে পড়ল।
মণির বাবার বাড়িতে বাবা - মা ছাড়া আর কেউই নেই। ফলে নিজের মনের কথা খুলে বলার জায়গাও তার নেই। তার মধ্যে রাহুলের দিক থেকে এতবড় আঘাত নেওয়ার মত ক্ষমতা সে কি করে অর্জন করবে এটা ভেবেই ও সবসময় অস্থির হয়ে পড়ল। সংসারের কোনো কাজেই ওর মন বসত না। উল্টে আগত অতিথিকে কি করে রক্ষা করবে , এইসব নানা চিন্তায় ওর মন সবসময় উতলা হয়ে পড়ল।
অন্যদিকে রাহুল তার মতনই জীবন কাটিয়ে যাচ্ছিল। একদিনের একটা ঘটনা রাহুলকে আবার ঘর মুখী করে দিল। হঠাৎই অনামিকা রাহুলের জায়গায় অন্য আরেকজনকে বসিয়ে দিল। যা রাহুলকে খুবই বিচলিত করে তুললো। সে অনেকবার জিজ্ঞাসা করেও এর কোন সদুত্তর না পেয়ে মণির কাছেই ফিরে এল। কিন্তু না , মণি কিন্তু তাকে আর আগের জায়গা দিতে পারল না। তাই আগত অতিথিকে নিয়ে মণি নিজেকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে এতদিনের তৈরি করা সংসার ছেড়ে চলে গেল। তার মনে হল তার স্বামী একবার যখন এই পথে পা বাড়িয়েছে , তখন তাকে আর বিশ্বাস করা চলে না। সুতরাং বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে মণি এই সিদ্ধান্ত নিল।
সমাজের সব ক্ষেত্রেই ঘটনাপ্রবাহ যদি এইভাবেই চলে। তবে তার জন্য চাই প্রত্যেকটি মেয়ের প্রথাগত শিক্ষা, যা তাদেরকে মানসিকভাবে উন্নত করবে এবং মনের জোর বাড়াতে সাহায্য করবে। সমাজে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও যদি সমান চোখে দেখা হয় এবং শুধু তাই নয় তাদের শিক্ষা ও মতামতকে যদি সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় তবে তাদেরও শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে এবং মনের জোর বাড়বে।